হিস্টামিনাম (Histaminum Hydrochloricum) হোমিও ঔষধের কাজ কি?
হিস্টামিনাম (Histaminum)
ফার্মেসী(Pharmacy): হিস্টামিন সাধারণত হিস্টামিন-বাই-ক্লোরোহাইড্রেট(Histamine-bi-chlorohydrate) হিসাবে ব্যবহৃত হয়। হোমিওপ্যাথিতে হিস্টামিন বা হিস্টামিনাম ঔষধটি হিস্টামিন হাইড্রোক্লোরিকাম হতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রস্তুত প্রণালী অনুসারে তৈরি করা হয়।
প্রুভিং-এর ইতিহাস(History of Proving): হিস্টামিন সাধারণত ক্যাপিলারী ভেসেল(Capillary vessel) ডাইলেটর(প্রসারণ) এবং আটারিওল ভেসেল(arteriole vessel) সংকোচনConstriction) করে। ইহা ব্রঙ্কাই(bronchi)-কে সংকোচিত করে এবং অন্ত্রের টিস্যু(Intestinal tissue), জরায়ু, পাকস্থলী এবং অগ্ন্যাশয়ের টিস্যুকে উত্তেজিত করে নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। ইহা সাধারণত হিস্টামিন বাই-ক্লোরোহাইড্রেট হিসাবে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫০ সালে Dr. J. Gringuaz ৩৯জন প্রুভারের মধ্যে 3c, 6c,12c, 30c, 200c এবং 1000c শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করে ঔষধটি হোমিওপ্যাথিতে অন্তর্ভূক্ত করেন।
ক্লিনিক্যাল ব্যবহার(Clinical use): এলার্জিক প্রতিক্রিয়া, হৃৎপিণ্ডের বেদনা(Angina pectoris), ধমনীর প্রদাহ, রোগে ভোগার জন্য দুর্বলতা(Asthenia), শ্বাসকষ্ট, মৌমাছির কামড়ানো, চোখের পাতার প্রদাহ, ব্রঙ্কাইটিস, ক্যানসার, সারভিসাইটিস, কলাইটিস, কনজাংটিভাইটিস, মূত্রথলীর প্রদাহ, ফুসফুসের বায়ুস্ফীতি(Emphysema), গ্যাস্ট্রিক, ডিওডেনাল আলসার, মাথাব্যথা, নিদ্রাহীনতা, হৃৎপিণ্ডের আবরণী পেশির প্রদাহ, যোনিদ্বার চুলকানি, টাইফয়েড ফিভার, মাথাঘোরা, হুপিং কাশি ইত্যাদি।
ধাতুগত বৈশিষ্ট্য(Constitutions): এলার্জিক এবং সোরিক ধাতের বৈশিষ্ট্য বহন করে। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় টিউবারকুলার ধাত প্রকাশ করে।
উপযোগী লক্ষণ(Indicating Symptoms): এলার্জিঘটিত অসুস্থতা বিশেষতঃ যদি বায়ুনালী-ভুজের ওপর অংশ আক্রান্ত হয়, এলার্জিক হাঁচি, সর্দি, জলের মত তরল সর্দি ঝরতে থাকে, এলার্জিক হাঁপানী ইত্যাদি ক্ষেত্রে। ধূলা, ধোঁয়া, সুগন্ধি ইত্যাদিতে এলার্জি হয়ে যদি নাকে সর্দি, হাঁচি, নাক বন্ধ হয়ে যায়। কাশি, গলা সুঁড়সুঁড় করে কাশি বা শ্বাসনালীর আক্ষেপ(Bronchospasm) হয়ে হাঁপানী হয় সেক্ষেত্রে অত্যন্ত সুফল দেয়। আরও কিছু প্রয়োগ লক্ষণ, যেমন-
-গলা শুকিয়ে যেন গলা আটকে আসে।
-দম বন্ধ মত হয়, ঐসাথে ফুসফুস যেন অধিক বায়ু নিতে পারছে না মনে হয়।
-গলা সুঁড়সুঁড় করে কাশিতে গলা আটকে আসে-কথা বলতে পারেনা।
-অনবরত কাশি।
-পনীরের মত থোকাথোকা হলদে, সাদা বা সবজে শ্লেষ্মা ওঠে।
-নাক চুলকায়-নাকের ভেতরেটা যেন শকনোমত, একদিকের বা দু’দিকেরই নাক বন্ধ হয়ে থাকে।
-শ্বাস নেওয়া কষ্টকর।
-হাঁচি সকালে বাড়ে, ধূলা, ধোঁয়ায় বাড়ে(ফুলের গন্ধে বা ফুলের গন্ধের কথা মনে এলেই হাঁচি হতে থাকে-স্যাবাডিলা)।
বিশেষ লক্ষণ(Particular Symptoms):
মানসিক লক্ষণ(Mental Symptoms): তুচ্ছ বিষয়ে রেগে যায়। অসহিষ্ণু(Impatient), অস্থিরতা, উদ্দেশ্যহীনভাবে এদিক-সেদিক নড়াচড়া করে। ঝগড়াটে। অবসাদ, দুঃখিতভাব যা জোরে হাঁটলে কমে যায়। অপেক্ষা করতে পারে না-উদ্ভিগ্নতা প্রকাশ করে। দুঃখের সংবাদ শুনলে পেটে চাপবোধ করে। সঠিক শব্দ এবং মনে করতে পারে না। কোন কিছু সহজে বুঝতে পারে না।
পেট(Abdomen): এসিডিটি, টক ঢেঁকুর ওঠে। গ্যাস্ট্রিক এবং ডিওডেনাল আলসার। হঠাৎ করে পেট খারাপ হয়ে যায়। পেটে সংকোচনবোধ। টাইফয়েড এবং প্যারাটাইফয়েড জ্বরে অন্ত্রের ঝিল্লিতে ক্ষত এবং রক্তক্ষরণ হয়।
বুক(Chest): হৃৎপিণ্ডে বেদনা। বুকের বিভিন্ন জায়গায় খোঁচা মাড়া ব্যথা। বুক ব্যথায় যেন বুকের খাঁচা ভেঙ্গে যাচ্ছে। তীব্র দৈহিক যাতনাসহ বুক ব্যথা যা জোরে শ্বাস নিলে কমে।
কান(Ears): এক কানে অথবা উভয় কানে ব্যথা, ব্যথা সাড়া শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কানে ভারবোধ, মনে হয় কান বন্ধ হয়ে আছে। পর্যায়ক্রমে এক কান বন্ধ হয় অপর কান খলে যায়।
চোখ(Eyes): চোখে তাপবোধ, চোখের ধারগুলো চুলকায়। চোখের পাতার মাংসপেশিগুলো সংকোচিত হয়ে আসে, হঠাৎ করে চোখ বন্ধ হয়ে অসে। মনে হয় চোখে কিছু পড়েছে। চোখের পাতা লাল, ফোলা ভাব। চোখ শুকনো মনে হয়। হলুদ বর্ণের স্রাব নিঃসৃত হয়। চোখের পাতার প্রদাহ, এলার্জিক কন্জাঙ্কটিভাইটিস, খোঁচা মাড়া ব্যথা-ঠাণ্ডায় আরাম এবং ঝাপটা বাতাসে বৃদ্ধি।
মুখমণ্ডল(Face): মুখমণ্ডলের এক পাশে ব্যথা, ব্যথা উপর এবং নীচের ম্যাক্সিলা ও দাঁতে ছড়িয়ে পড়ে। মুখমণ্ডলের এক পাশে তাপ বোধ।
মাথা(Head): কপাল ব্যথা, ব্যথা মাথার পিছন দিক দিয়ে ঘাড়ে চলে আসে। ভারবোধ, চেপেধরা মত মাথা ব্যথা-ঠাণ্ডা, চাপ এবং মুক্তবাতাসে কমে, নড়াচড়ায় বাড়ে, সূর্যের তাপে সামনে ঝোকলে বাড়ে। মাথা চুলকানোসহ মনে হয় শক্ত করে বাধা আছে।
হৃৎপিণ্ড(Heart): হৃৎপিণ্ডে সুঁচ ফুটানো মত ব্যথা। হৃৎপিণ্ডের ব্যথা এবং দাঁত ব্যথা পর্যায়ক্রমে আসে। হৃৎপিণ্ডের আবরণী পেশির প্রদাহ। মনে হয় হৃৎপিণ্ডে আটকা পড়ে আছে
মূত্রনালী(Urinary tract): মূত্রথলীর প্রদাহ, কিডনী প্রদাহ, প্রস্রাবের থলীতে অসহ্য তাপবোধ, সারাক্ষণ-প্রস্রাব করার ইচ্ছা কিন্তু খুব অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হয়। প্রস্রাবে এত যন্ত্রণা যে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে, এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। প্রস্রাব করার জন্য বাথরুমে কয়েক ঘন্টা বসে থাকে। প্রস্রাব আটকে যায়, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হয় মনে হয় একটুকরে মাংস পিণ্ডে প্রস্রাব আটকা পড়েছে। প্রস্রাবে আগুনের মত জ্বালা মনে হয় প্রস্রাবের থলী এবং প্রস্রাবের নালীতে সুঁচ ফোঁটানো আছে।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ(Limbs): নিম্নাঙ্গের ধমনী প্রদাহ/মাংসপেশি এবং জয়েন্ট ব্যথা, জ্বালা, খোঁচামাড়া ব্যথা। প্রচণ্ড ব্যথা নড়াচড়া করতে পারে না। মাংসপেশি চুলকায়, সুঁড়সুঁড় করে। তাপবোধ মনে হয় পুড়ে গেছে। হঠাৎ করে মাংসপেশি সংকোচিত হয়ে আসে, ঝাঁকুনি দেয়। পেটের চারদিকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চারপাশে শক্ত করে বেধে রাখার মত অনুভূতি। এলার্জিক বাত ব্যথা।
ফুসফুস(Lungs): বুকে চাপবোধ, মনে হয় বায়ু শূন্য হয়ে পড়েছে। কথা বলার সময় খুক খুক করে কাশ। শুকনো কাশি, গলা এবং স্টার্নামের নীচ থেকে কাশির উৎপত্তি। হলদে অথবা সাদা-হলুদ অথবা সবজে কফ-পনিরের মত স্বাদ। ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস। ব্রঙ্কাই-স্ফীতি। ফুসফসের বায়ুস্ফীতি। হুপিং কাশি।
স্ত্রীজননাঙ্গ(Female genital organ): বাম ওভারীতে ব্যথা, পায়ে এবং বাম হাইপোকণ্ডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে। মাসিক খুব তাড়াতাড়ি অথবা দেরীতে হয়। ঋতুস্রাবের পরিমাণ কম। মাসিক স্রাব তীব্র গন্ধ যুক্ত। শ্বেতপ্রদর পোড়া রক্তের মত গন্ধ। প্রস্রাবের থলী, ওভারী, ফেলোপিয়ান টিউব এবং সারভিক্সে প্রদাহ। সারভিক্সের ক্যানসার।
পুংজননাঙ্গ(Male genital organ): অণ্ডকোষের জল সঞ্চয়(Hydrocele), অণ্ডকোষের প্রদাহ প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যানসার। জ্বালা, খোঁচামাড়া ব্যথা। ব্যথা এক পাশ হতে অন্য পাশে চলে যায়, তার সাথে মাথা ব্যথা।
মুখ(Mouth): মুখ শুকনো। মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। মাঝে মাঝে প্রচুর লালাস্রাব আবার মাঝে মাঝে শুকিয়ে যায়। মুখে চুলকায় এবং তাপবোধ হয়। পারফিউমে মদের গন্ধ পায়। মুখ জোরে-বড় করে খুলতে পারে না যেন ঠাণ্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকে যায়। দাঁত ব্যথা।
নাক(Nose): নাকে চুলকানি, মনে হয় নাকের চামড়া কুঁচকে গেছে(Shrinking)। নাকের ছিদ্র মনে হয় বড় হয়ে গেছেল। নাকের ছিদ্রে ব্যথা অনুভূতিসহ শুকনা। ঠাণ্ডা বাতাসে শ্বাসনিতে কষ্ট ও ব্যথা বোধ। নাক এক পাশ অথবা উভয় পার্শ্বে বন্ধ থাকে। নাকের একপাশ বন্ধ এবং অপর পাশ গরমসহ মাথা ঠাণ্ডাবোধ। হঠাৎ করে নাকে তীব্র চুলকানি।
রেকটাম(Rectum): রেকটাম ব্যথা, ডায়রিয়াসহ কালো পায়খানা। গন্ধযুক্ত কালো পায়খানা। পায়খানা করার পরও পায়খানার বেগ থাকে।
চর্ম(Skin): আমবাত(Urticaria)। হঠাৎ ত্বকের কোন অংশে তাপ এবং জ্বালা। সারা শরীরে ছোট ছোট লাল উদ্ভেদসহ চুলকানি। চুলকালে ভাল বোধ করে কিন্তু গোসল এবং ধৌত করার পর বাড়ে। টাক পড়ে, মাথার চুল পড়ে যায়, মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের চুল পড়ে যায়। চুল শুকনোভাব। মুখমণ্ডলের ত্বক পুড়ে যাওয়ার মত তাপ এবং গরমবোধ। শরীরের বিভিন্ন অংশে অসাড়তাসহ সুঁড়সুঁড়ানিবোধ হয়।
ঘুম(Sleep): নিদ্রাহীনতা, রাত ২০৩টা পর্যন্ত ঘুম আসেনা। ঘুমের মধ্যে পোকামাকড়ের স্বপ্ন দেখে।
পাকস্থলী(Stomach): খাবার খাওয়ার সময় এবং খাবারের কথা চিন্তা করলে বমি বমি ভাব। পেটে ভারীবোধ, ফোলে যায় মনে হয় ফেটে যাবে। পেট ব্যথা মনে হয় অপাচ্য খাবার খেয়েছিল। পেটে দুর্বলতাবোধ। দুঃসংবাদ এবং দুঃসংবাদের কথা চিন্তা করলে বাড়ে। মনে হয় পেটে আগুন জ্বলছে।
দাঁত(Teeth): দাঁত ব্যথা, মাড়ী হতে পুঁজ পড়ে(Pyorrhoea), মনে হয় দাঁত নড়ে গেছে, কোন কিছু চিবিয়ে খেতে ভয়, মনে হয় দাঁত পড়ে যবে।
গলা(Throat): গলা ব্যথা, ফ্যারিঙ্কস শুকনো। কোন কিছু গিলতে কষ্ট গরমে বাড়ে, ঠাণ্ডায় উপশম। গলায় মনে হয় গোলাকার কিছু আটকে আছে। চাপবোধ, সংকোচনবোধ।
তাপমাত্রা(Temperature): শীতবোধ, কাঁপতে থাকে, হঠাৎ করে গরমবোধ। শীতবোধ ও গরম পর্যায়ক্রমে আসে। গরমে ঘামতে থাকে এবং দুর্বলতাবোধ।
প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন(Pathological Change): রক্তের IgE বেশি থাকে। বিডাল টেস্ট(Widal test) পজেটিভ(টাইফয়েড ফিভারের ক্ষেত্রে)। প্রস্রাব-এর রুটিন পরীক্ষায় Pus cell এবং Epithelial cell বেশি পাওয়া যায়। বুকের এক্সরে করলে ব্রঙ্কাইটিস ধরা পড়ে। বেরিয়াম মিল(Ba-meal) এক্সরে অথবা এণ্ডোসকপি(S/D) করলে ডিওডেনামে ক্ষত(Duodenal Ulcer) পাওয়া যায়। মহিলাদের Pap’s smear test করলে সারভিক্সের প্রদাহ(Cervicitis) এবং ক্যানসার পাওয়া যেতে পারে। আল্ট্রাসনোগ্রাফীতে প্রস্রাবের থলীর প্রদাহ অথবা কিডনীর সমস্যাগুলো পাওয়া যায়।
হ্রাস-বৃদ্ধি(Modalities): ফ্যানের বাতাসে, চাপে ভালোবোধ করে। নড়াচড়ায়, জোরে শ্বাস নিলে এবং গরমে বৃদ্ধি।
মৌলিক লক্ষণ(Cardinal Symptoms):
*এলার্জিজনিত হাঁচি, সর্দি, জলের মত পাতলা সর্দি ঝরতে থাকে।
*এলার্জিক হাঁপানি-ধুলা, ধোঁয়া, সুগন্ধি ইত্যাদিতে বাড়ে।
*গলা সুঁড়সুঁড় করে কাশি, শ্বাসনালীর আক্ষেপ (Bronchospasm) হয়ে হাঁপানি।
*গলা শুকনো-যেন আটকে আসে।
*অনবরত কাশি, পনীরের মতো থোকাথোকা হলদে, সাদা বা সবজে কফ ওঠে।
*নাক চুলকায়- নাকের ভেতরটা যেন শুকনো মত, একদিকের বা দুদিকেরই নাক বন্ধ হয়ে থাকে।
*হাঁচি সকালে বাড়ে, ধুলা ধোঁয়া এবং ফুলের গন্ধে বাড়ে।
তুলনীয় ঔষধ(Comparative medicine):
এপিস মেল, আর্সেনিক এলবাম, সিকেলি কর, আর্টিকা ইউরেন্স, মেডোরিনাম, সালফার, টিউবারকলিনাম ইত্যাদি।
শক্তি(Potency): সকল শক্তিই ব্যবহার হয়। তবে ১এম শক্তিতে আশাতীত ফল পাওয়া গেছে।
সংগ্রহ(Sources): Julian, Robin Murphy, এ্যালেন’স কী নোটস।
লেখক-
ডাঃ মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন
BHMS(Dhaka University)
MS(Microbiology)-Primeasia University
MPH(Epidemiology)-University of South Asia
DMU(Advance Ultrasonology)-BIMDUR
PGD(Homeo. Medicine)-BIPHER.











