২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
Uncategorized
ইসলামী জীবন
ঔষধ ও চিকিৎসা
খাদ্য ও পুষ্টি
জানুন
নারীর স্বাস্থ্য
পুরুষের স্বাস্থ্য
ভিডিও
ভেসজ
যৌন স্বাস্থ্য
রান্না বান্না
লাইফ স্টাইল
শিশুর স্বাস্থ্য
সাতকাহন
স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য
স্বাস্থ্য খবর

দাম্পত্য সংকট সমাধানে আপনার ভূমিকা

দাম্পত্য মানে ভালোবাসার এক অমোঘ বন্ধন। দাম্পত্য মানেই স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে নিষ্প্রাণ বাসা আর আসবাবপত্রের সমষ্টিকে একটা শান্তির ঘর বানিয়ে তোলা। একসঙ্গে স্বপ্ন দেখা, হাসি-কান্না ভাগ করে নেওয়া, সন্তানকে মানুষ করা- এরই নাম দাম্পত্য।

কিন্তু তারপরও দুটো মানুষ সবসময় সব বিষয়ে যে একমত হবেন তা কিন্তু নয়। দুজনের মানসিক গঠন যেহেতু আলাদা তাই চাহিদার ফারাক থাকাটাও খুবই স্বাভাবিক। সেই কারণেই মাঝেমাঝেই দাম্পত্যে দেখা দেয় সংকট। সংকট আর সুখ দাম্পত্যের দুই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

সুখ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে আনন্দ পাওয়া যায়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের সংকট ক’জনই বা মুখ ফুটে বলতে পারেন? দাম্পত্য জীবনের নানা জটিলতা এবং তার সমাধান নিয়ে আয়োজন- দাম্পত্যে সংকট।

এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয়ক ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি ঠিকানা: – YouTube.com/HealthDoctorBD

দাম্পত্য সংকট সমাধানে আপনার ভূমিকা
* যখনই বুঝতে শুরু করবেন যে, আপনাদের দাম্পত্য জীবনে সংকট শুরু হয়েছে, তখন ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যাটা নিয়ে পর্যালোচনা করুন। কী কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা খুঁজে বের করুন। আপনার নিজের কোনো দোষ থাকলে কখনোই তা এড়িয়ে যাবেন না। সমস্যার একটি তালিকা তৈরি করুন। এবার তা নিয়ে স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসুন। এমন জায়গায় বসে আলোচনা করবেন যেখানে কেউ আপনাদের বিরক্ত করবে না। নিজের দোষ থাকলে সঙ্গীর কাছে তা স্বীকার করুন। খুব স্বাভাবিকভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

* যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, নিজেদের জন্য একটা ব্যক্তিগত সময় অবশ্যই রাখবেন। অফিস থেকে ফিরে বিশ্রাম করতে করতে আলোচনা করুন সারাদিন আপনারা কে কেমন কাটালেন। এই সময়ে অকারণে সঙ্গীকে নিয়ে ঠাট্টা বা ইয়ার্কি করা, ঠেস দিয়ে কথা বলা, পুরোনো ভুল নিয়ে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। বরং যতটা সম্ভব হালকা ও মজার বিষয় নিয়ে কথা বলুন।

* সব সিদ্ধান্ত নিজে নেবেন না। সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দিন। সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল, খাবারের মেনু, নিজেদের জন্য সঞ্চয় সব ব্যাপারেই দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিন। এতে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া পোক্ত হবে।

* মাঝে মাঝে কোনো কারণ ছাড়াই একে অপরকে উপহার দিন। ছুটির দিনে দুজন মিলে কোথাও ঘুরে আসুন। সাংসারিক চিন্তাভাবনা ভুলে গিয়ে আগের মতো দুজন আড্ডা দিন। নিজের মধ্যে চেপে রাখা কষ্টগুলো গল্পচ্ছলে সঙ্গীকে জানান। তাকে বুঝিয়ে বলুন ঠিক কীভাবে তাকে আপনি পেতে চান। ধীরে ধীরে আলোচনার মাধম্যে নিজেদের মধ্যে দূরত্বটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

* দাম্পত্য পুরোনো হয়ে গেলে বেশিরভাগ দম্পতির যৌন জীবনে ভাটা পড়তে শুরু করে। ছেলেমেয়ে বড় হচ্ছে বলে অকারণে নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। বাবা-মায়ের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক থাকলে সন্তানও নিজেকে নিরাপদ মনে করে। অকারণে জড়িয়ে ধরা, কোনো কারণ ছাড়াই হাত ধরে হাঁটা সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

* স্বামী বা স্ত্রীকে খানিকটা স্পেস দেওয়া সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ। আপনার একটা নিজস্ব জগৎ বানিয়ে ফেলুন। সবসময় সঙ্গীর ওপর নির্ভরশীল না হয়ে, একটা স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখুন। বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়স্বজন নিয়ে নিজের একটা বলয় গড়ে তুলুন। কিন্তু মনে রাখবেন সবসময় আঁকড়ে থাকাটা যেমন খারাপ, ঠিক তেমনি পুরোপুরি উদাসীন হয়ে যাওয়াও উদ্বেগজনক।

* যদি মনে করেন সন্দেহই আপনাদের সম্পর্কে ঘুন ধরাচ্ছে তাহলে প্রয়োজন রয়েছে নিজেকে যাচাই করার। সত্যিই কি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর কোনো দোষ আছে নাকি আপনার সন্দেহই পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে তা ভেবে দেখুন। নিজের কাছে সৎ থেকে ভাবনাচিন্তা কাটাছেড়া করলেই কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল আপনি তা বুঝতে পারবেন।

* সম্পর্কের প্রথম ধাপ থেকেই সঙ্গীকে খুশি করার জন্য নিজের ইচ্ছা বা পছন্দ চাপা দিয়ে রাখবেন না। আবার নিজের পছন্দও সঙ্গীর ওপর জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। না হয় তার সঙ্গে নাই বা মিলল সমস্ত পছন্দ-অপছন্দ। ভালোবাসার প্রথম শর্তই হচ্ছে একজন মানুষকে তার দোষগুণ সমেত ভালোবাসা।

প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অল্পবিস্তর সমস্যা থাকেই। বেশিরভাগ সময়ই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই তা মিটে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে বাইরে থেকে সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। তখনই দরকার হয় একজন কাউন্সিলরের সহযোগিতার।

অনেকেই হয়তো ভাবেন যে একজন অচেনা, অজানা ব্যক্তি কীভাবে আপনাদের বৈবাহিক জীবনের সমস্যা দূর করবেন? আবার অনেকেই কাউন্সিলরের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করেন, কারণ তারা মনে করেন তাদের দাম্পত্যের সব কথা বাইরে প্রকাশ হয়ে যাবে বা ব্যক্তিগত দুর্বলতা একজন অচেনা ব্যক্তি জেনে যাবেন।

কিন্তু সমস্যা লুকিয়ে রাখলে তার সমাধানও হবে না। বরং কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে আপনার মনের জমে থাকা ক্ষোভ বাইরে বেরিয়ে আসবে। যেসব কথা অনেক চেষ্টা করেও বলে উঠতে পারেননি তিনি সেগুলো বলতে সাহায্য করবেন। মনের জানালা খুলে গেলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যায়। আসলে স্বামী-স্ত্রী নিজেরা যখন সমাধানের চেষ্টা করেন তখন যে যার বক্তব্যে অনড় থাকেন। কাউন্সিলর এক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। অনেক সময় তিনি রোল প্লেয়িং টেকনিক ব্যবহার করেন। মানে স্বামীকে স্ত্রীর এবং স্ত্রীকে স্বামীর মতো আচরণ করতে বলেন। এতে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পেরে আবার নতুন করে কাছাকাছি চলে আসেন।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি

Comments

comments