অবিবাহিতা থেকেও সুখী হবেন যেভাবে
প্রাপ্তবয়স্ক নারী হিসেবে সিঙ্গেল থাকা সহজ নয়। কিছুদিন পর পরই দেখা যায় কাছের বান্ধবী বা আত্মীয় প্রেম করছে, বিয়ে করে ফেলেছে এমনকি সন্তান নিয়ে সুখে সংসার করছে। এমন অবস্থায় সিঙ্গেল জীবন নিয়ে অনেকেই অসুখী হয়ে পড়েন, মনে হয় সময় ফুরিয়ে আসছে। নিজেকে খুবই একাকী মনে হয়।
কিন্তু আপনি একা নন। অনেক নারী সুখেই সিঙ্গেল জীবন উপভোগ করছেন। সিঙ্গেল নারীরা নিজেকে দোষারোপ করেন, ভাবেন তিনি দেরি করে ফেলেছেন, ফলে আর ভালো কোনো প্রেমিক বা জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন না। কিন্তু এমন নেতিবাচক চিন্তায় নিজেরই ক্ষতি হয়। সিঙ্গেল থাকার খারাপ দিক নিয়ে চিন্তা না করে নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করুন। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে যে কোনো উপায় বিয়ে বা সম্পর্কে জড়িয়ে যাবার আগে নিজের সিঙ্গেল জীবনটাকে উপভোগ করুন। দেখে নিন সিঙ্গেল ও সুখী থাকার ১০টি সূত্র-
১.নিজের সমালোচনা করবেন না: নিজের সমালোচনা করাটা খুবই সহজ। সিঙ্গেল থাকলে মনে হয় বাকি সবাই নিজের সম্পর্ক বা দাম্পত্য নিয়ে অনেক সুখী আছে। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে আসলে কোনো উপকার হয় না। নিজের সমালোচনা না করে বরং নিজের প্রশংসা করতে শিখুন। এখনই নিজের ব্যাপারে তিনটি ভালো গুণ লিখুন কাগজে। এ কাজটি করুন নিয়মিত। এতে আপনি নিজেকে মূল্য দিতে শুরু করবেন, বাড়বে আপনার আত্মবিশ্বাস।
২.স্বাধীনতা উপভোগ করুন: সিঙ্গেল আছেন তারমানে এই নয় যে আপনার কোনো ত্রুটি রয়েছে। বিয়ের পর জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা আপনি উপভোগ করতে পারবেন না। যেমন নিজের অন্য সিঙ্গেল বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দেওয়া, শহরের বাইরে ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। এ কাজগুলো করতে গিয়েই হয়তো ভালোবাসার মানুষটিকে পেয়ে যাবেন কোনো একদিন।
৩.ভুল করুন: অনেকেই একদম নিখুঁত একটি মানুষের সাথে প্রেম করতে চান বা বিয়ে করতে চান। কিন্তু আদতে কোনো মানুষ বা কোনো সম্পর্কই নিখুঁত নয়। সুতরাং ভুল করলেও তার সাথে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করুন।
৪.নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন: নেতিবাচক চিন্তা করলে আপনার প্রতি এমন মানুষ আকর্ষিত হবে যারা নিজেরাও ভালো কোনো চিন্তা করতে পারে না। অন্যদিকে, সুখী থাকার চেষ্টা করুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করুন। এতে আপনার জীবন আসবে তেমনই মানুষ যারা ভালো চিন্তা করে। এর পাশাপাশি আপনি নিজেকেও সুখী রাখতে পারবেন।
৫.একা একাই জীবন চালাতে শিখুন: সিঙ্গেল নারীরা অনেক কিছুই একা করতে ভয় পান। কোনো একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু একা গেলে মানুষে কী বলবে? এমন ভয় থেকেই তারা যান না। আসলে কিন্তু কেউ তেমন খেয়ালই করবে না আপনি একা কী না। অন্যের ওপর নির্ভর না করে একাই সবকিছু করা শুরু করুন।
৬.অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কে জড়াবেন না: বান্ধবীরা প্রেম করছে, আমাকেও করতে হবে- এই চিন্তা থেকে অনেকেই তড়িঘড়ি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ভুল মানুষটির সাথে। এমনকি ভুল করছেন জেনেও অস্বাস্থ্যকর একটি সম্পর্কে আটকে থাকেন তারা। এতে একাকী থাকার চেয়েও ক্ষতি হয় বেশি। সুতরাং সিঙ্গেল রয়েছেন বলেই হুট করে অস্বাস্থ্যকর একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেন না।
৭.অন্যান্য সম্পর্ককে প্রাধান্য দিন: ভালোবাসা আসবে-যাবে। আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক কিন্তু রয়ে যাবে। এসব সম্পর্ককে প্রাধান্য দিন। তাদেরকে সময় দিন। এতে আপনার জীবনে সুখ ও শান্তি বজায় থাকবে।
৮.অনুভূতি চেপে রাখবেন না: নেতিবাচক অনুভূতি বলেই বিষাদ, রাগ বা হতাশা চেপে রাখবেন না। নিজের মনের মাঝে সব অনুভূতিকেই জায়গা দিন। এগুলো আপনার ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে কাজে আসবে।
৯.অতীতকে আঁকড়ে রাখবেন না: অতীত ভুলতে না পারলে বর্তমানকে উপভোগ করতে পারবেন না আপনি। অতীতের ভুল নিয়ে অনুশোচনা করবেন না। ভুলটাকে শুধরে নিন এবং তা থেকে শিক্ষা নিন। এতেই আপনি সামনে অগ্রসর হতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে সুন্দর একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।
১০.নিজেকে জানুন: সিঙ্গেল নারীদের প্রেমিক বা সংসারের পেছনে সময় দিতে হয় না। এ সময়টা নিজের পেছনে ব্যয় করুন। আপনি কী চান, জীবন নিয়ে কী করতে আগ্রহী, আপনি কেমন মানুষ- এসব নিয়ে ভাবুন। এতে ভবিষ্যতে আপনারই উপকার হবে।