৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
Uncategorized
ইসলামী জীবন
ঔষধ ও চিকিৎসা
খাদ্য ও পুষ্টি
জানুন
নারীর স্বাস্থ্য
পুরুষের স্বাস্থ্য
ভিডিও
ভেসজ
যৌন স্বাস্থ্য
রান্না বান্না
লাইফ স্টাইল
শিশুর স্বাস্থ্য
সাতকাহন
স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য
স্বাস্থ্য খবর

মন খারাপের চিকিৎসায় ১১টি খাদ্য

অল্প বিস্তর মন খারাপ তো আমাদের সবারই হয়ে থাকে। কিন্তু একথা কি জানা আছে যে টানা মন খারাপের সমস্যায় দীর্ঘ দিন ভুগলে মস্তিষ্কের ভেতরে এমন ক্ষতি হয় যে নানাবিধ মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই মন খারাপের মতো অনুভূতিকে বেশি দিন মনে প্রশ্রয় দিলে কিন্তু বিপদ!

সম্প্রতি ল্যান্সেট পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে ডিপ্রেশনের মতো রোগে ভুগলে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রদাহের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের কোষের মারাত্মক ক্ষতি হয়। আর এমনটা হতে থাকলে অ্যালঝাইমারস, ডিমেনশিয়া এবং পার্কিনসনের মতো জটিল মস্তিষ্কঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

গবেষণাটি চলাকালীন বিশষজ্ঞরা লক্ষ করেছিলেন মন খারাপ যখন মাত্রা ছাড়ায়, তখন মস্তিষ্কের ভেতরে ট্রান্সলোকেটার প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা প্রমাণ করে যে ডিপ্রেশনের সঙ্গে ইনফ্লেমেশন বেড়ে যাওয়ার গভীর যোগ রয়েছে।

এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয়ক ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি ঠিকানা: – YouTube.com/HealthDoctorBD

এখন প্রশ্ন হল আজকের দিনের এত স্ট্রেসফুল পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদের থেকে দূরে থাকার কোনো উপায় আছে কি? অবশ্যই আছে। তার জন্য এই লেখায়  আলোচিত খাবারগুলিকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলেই দেখবেন এই মারণ রোগ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল…

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এমন একটি উপাদান যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, মন খারাপ, অ্যাংজাইটি এবং ডিপ্রেশনের মতো ভয়ঙ্কর রোগকে দূরে রাখতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এমন স্ট্রেসফুল পরিবেশে নিজের মনকে বাগে রাখতে চেরি, আঙুর এবং সবুজ শাক-সবজির মতো খাবার বেশি করে খেতে হবে। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

২. মাছ
মাছে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি, বি৬ এবং বি১২ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই উপাদানগুলি মানসিক অবসাদের মতো রোগের আক্রমণ থেকে বাচ্চাদের বাঁচাতেও নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

৩. সাইট্রাস ফল
পাতি লেবু, কমলা লেবু এবং মৌসাম্বি লেবুর মত সাইট্রাস ফলের শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক সুগার, যা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ তো কমায়ই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই তো বাচ্চাদের প্রতিদিন এক বাটি করে ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৪. টমেটো
এতে থাকা লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর মন খারাপকে সমূলে উৎখাত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে মানসিক অবসাদের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগে না। এই কারণেই তো যাদের খুব স্ট্রেসফুল কাজ করতে হয়, তাদের প্রতিদিন একটা করে কাঁচা টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৫. পালং শাক
বাঙালির প্রিয় এই শাকটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শরীরে আয়রন, এবং ফলিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যার প্রভাবে মস্তিষ্কের ভেতরে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে শারীরিক ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই এবার থেকে যখনই মনটা বেশ খারাপ খারাপ লাগবে পালং শাক খাওয়া শুরু করবেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৬. ভিটামিন ডি
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামিনটির ঘাটতি দেখা দিলে মুড সুইং এবং ডিপ্রেশনের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই তো নিয়মিত কিছু সময় গায়ে রোদ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কারণ সূর্যের আলো গায়ে লাগলে দেহের ভেতরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, যে যে খাবারে এই ভিটামিনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে, সেগুলি হল মাশরুম, সয়ামিল্ক, ডিম প্রভৃতি।

৭. নারকেল
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নারকেলে থাকা বেশ কিছু উপকারি ফ্যাট শরীরে প্রবেশ করার পর মস্তিষ্কের ভেতরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ব্রেন পাওয়ারও এতটা বাড়িয়ে দেয় যে স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদের প্রকোপ তো কমেই, সেই সঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটে।

৮. বাদাম
এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন বি২, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক। এই সবকটি উপাদান সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে কোনওভাবেই স্ট্রেস ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৯. রসুন
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমানোর মধ্য দিয়ে স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, ছোট থেকেই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস করলে হার্টের কর্মক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

১০. কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট
নিয়মিত ব্রাউন রাইস বা পূর্ণ শস্য জাতীয় খাবার খেলে শরীরে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা নার্ভাসনেস, অ্যাংজাইটি এবং ইনসমনিয়ার মতো সমস্যা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১১. দই
স্কুল থেকে ফেরার পর প্রতিদিন যদি আপনার বাচ্চাকে এক বাটি করে দই খাওয়াতে পারেন, তাহলে তাদের শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা স্ট্রেস কমানোর পাশাপাশি ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর ব্রেন পাওয়ার বাড়লে অ্যাংজাইটির মতো সমস্যা কো কমেই, সেই সঙ্গে পড়াশোনাতেও উন্নতি ঘটে।

সূত্র: এনডিটিভি

Comments

comments