১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
Uncategorized
ইসলামী জীবন
ঔষধ ও চিকিৎসা
খাদ্য ও পুষ্টি
জানুন
নারীর স্বাস্থ্য
পুরুষের স্বাস্থ্য
ভিডিও
ভেসজ
যৌন স্বাস্থ্য
রান্না বান্না
লাইফ স্টাইল
শিশুর স্বাস্থ্য
সাতকাহন
স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য
স্বাস্থ্য খবর

‘কনজাঙ্কটিভাইটিস’ হতে পারে করোনার নতুন উপসর্গ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত বিশ্ব। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারালেও ভাইরাসটির গতি-প্রকৃতি বুঝে উঠতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। রোগটির উপসর্গ নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। সাধারণত হাঁচি, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের উপসর্গ ছাড়াও সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে দেখা দিচ্ছে নতুন নতুন উপসর্গ। আর এ তালিকায় কনজাঙ্কটিভাইটিস যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের লাইফস্টাইল বিষয়ক পোর্টাল বোল্ড স্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসে সাধারণ উপসর্গের পাশাপাশি রোগীর স্বাদ ও গন্ধের বোধ চলে যাচ্ছে, আবার কোনো জায়গায় পা ও হাতের পাতায় ফোস্কা, পায়ের আঙুলে র‌্যাশ দেখা দিচ্ছে। এইসব কিছু উপসর্গ বাদ দিয়ে এবার নতুন এক উপসর্গের কথা তুলে ধরেছেন চিকিৎসকেরা। গবেষকদের দাবি, করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে চোখেও। এর ফলে চোখ কনজাঙ্কটিভাইটিসের মতো লাল হয়ে যায়। এই উপসর্গটিকে গবেষকরা ‘পিঙ্ক আই’ নামেও অভিহিত করছেন।

কনজাঙ্কটিভাইটিস কী?

এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয়ক ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি ঠিকানা: – YouTube.com/HealthDoctorBD

চোখের সাদা অংশের উপরে যে পাতলা একটি আবরণ থাকে তাকে বলা হয় কনজাংটিভা। কোনো কারণে চোখের এই অংশে প্রদাহ হলে একে ‘চোখ ওঠা’ বলে। সাধারণ মানুষের কাছে এই নামে পরিচিত হলেও এটি আসলে কনজাঙ্কটিভাইটিস। অ্যালার্জি, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত কনজাঙ্কটিভাইটিস হতে পারে। এতে চোখের সাদা অংশটি লাল হয়ে যায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং চোখ চুলকাতে থাকে। এছাড়াও, চোখে ময়লা জমে, চোখ ও মাথার যন্ত্রণা হয় এবং কারও কারও দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে যায়।

COVID-19 এর সঙ্গে কনজাঙ্কটিভাইটিস কীভাবে সংযুক্ত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণ হতে পারে। যদি কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি নিজের হাত দিয়ে চোখ ঘষে, সেই হাত দিয়ে অন্য কাউকে স্পর্শ করে তাহলে ভাইরাসটি সেই ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করবে। এ ছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির চোখের পানি যদি কারও গায়ে পড়ে এবং সেই পানি যদি ওই ব্যক্তিটি কোনোভাবে নিজের চোখ, মুখ বা নাকে লাগিয়ে ফেলেন, তাহলে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

জ্যামা অপথালমোলজি (চক্ষু বিজ্ঞান)-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, COVID-19 এ আক্রান্ত ৩৮টি রোগীর মধ্যে ১২টি রোগীর চোখে কনজংটিভাল কনজেশন বা কেমোসিস অর্থাৎ চোখের কনজাংটিভা ফুলে যাওয়া, এপিফোরা অর্থাৎ চোখ দিয়ে অত্যাধিক পানি পড়া, ইত্যাদি লক্ষণগুলো প্রকাশ পেয়েছিল। এই লক্ষণগুলো গুরুতরভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই দেখা গিয়েছিল।

‘দ্য জার্নাল অব দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথালমোলজি’তে প্রকাশিত একটি তথ্য অনুযায়ী, COVID-19 দ্বারা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মাত্র ১-৩ শতাংশের এই ধরনের চোখের সমস্যা দেখা যায়। তবে, মূল উপসর্গগুলো যেমন- জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, ইত্যাদি নেই কিন্তু শুধুমাত্র কনজাঙ্কটিভাইটিসের লক্ষণ রয়েছে এরকম হলে ততটা ভয়ের কিছু থাকে না। তবে যদি উপরোক্ত মূল উপসর্গগুলোর একটি বা দুটিসহ চোখ লাল হওয়া থাকে তাহলে তা চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসিন ও প্যাথোলজির অধ্যাপক জন ইভান্স প্যাটারসন এর মতে, COVID-19 দ্বারা সংক্রামিত রোগীর হাঁচি/কাশি থেকে নির্গত ড্রপলেটস্ সুস্থ ব্যক্তির নাকে-মুখে ঢুকলে যেমন করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন, তেমনই ড্রপলেটস্ চোখে ঢুকলেও কোনও ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন। তাই মাস্ক এর পাশাপাশি সুরক্ষা-চশমা ব্যবহার করাও অত্যন্ত প্রয়োজন।

১. আপনারও যদি এ জাতীয় সমস্যা দেখা দেয় তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. চোখে অপরিষ্কার হাত দেবেন না।

৩. চোখে হাত দেওয়ার আগে এবং পরে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে।

৪. মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি চশমাও ব্যবহার করুন।

৫. যারা চোখে ড্রপ দেন, তারা ড্রপ দেওয়ার আগে ও পরে হাত ধুয়ে নেবেন।

৬. গামছা বা তোয়ালে শেয়ার করবেন না।

৭. ঘনঘন বালিশ কভার, বেডশিট এবং তোয়ালে বদলান বা ভালো করে ধুয়ে নিন।

৮. সুইমিং পুল ব্যবহার করবেন না।

৯. ঘনঘন চশমা পরিষ্কার করুন।

১০. চোখে কোনো কসমেটিকস শেয়ার করবেন না

সূত্র: আমাদের সময়

Comments

comments